কোটি ছাড়িয়ে শাকিব, অন্য নায়কেরা কে কত পান

0
dfghjkl;'

ছবিপ্রতি কেউ পাচ্ছেন ৩-৫ লাখ, কেউবা ১৫ থেকে ২০ লাখ, আবার ২৫ লাখ টাকাও নিচ্ছেন কেউ। শুধু একজনই দর হাঁকাচ্ছেন কোটি টাকা। তারকা, পরিচালক, প্রযোজকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঢালিউডের শীর্ষ নায়কদের পারিশ্রমিকের খবর জানাচ্ছেন মনজুর কাদের
শাকিব খান

‘অনন্ত ভালোবাসা’ দিয়ে ১৯৯৯ সালে ঢালিউডে অভিষেক। সোহানুর রহমান সোহানের ছবিটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন ইরিন জামান। এই ছবিতে তাঁর পারিশ্রমিক ছিল লাখ টাকার কম। ২০০৬ সালে ‘কোটি টাকার কাবিন’ দিয়ে প্রথম ব্লকবাস্টারের দেখা পান শাকিব। একই বছর সুপারহিট হয় ‘চাচ্চু’, ‘দাদীমা’, ‘পিতার আসন’। আগের বছরই অবশ্য ‘আমার স্বপ্ন তুমি’ দিয়ে নজর কাড়েন শাকিব। ধীরে ধীরে ঢালিউডের সফল ও জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৮ সালের শেষে হঠাৎ করেই পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দেন শাকিব। ছবিপ্রতি ৪০ লাখ টাকা নেন। আর ‘প্রিয়তমা’ ব্লকবাস্টার হওয়ার পর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে এই পারিশ্রমিক। গেল কয়েক বছরে ‘প্রিয়তমা’, ‘রাজকুমার’, ‘তুফান’, ‘দরদ’-এ দফায় দফায় দর বাড়িয়েছেন শাকিব।

প্রযোজক-পরিচালকেরা জানিয়েছেন, এ বছরের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে শাকিবের ‘বরবাদ’ ও ‘তাণ্ডব’। বছর শেষে শাকিবের আরেকটি ছবি মুক্তি পেতে পারে। ছবি তিনটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এখন সিনেমাপ্রতি তাঁর পারিশ্রমিক দেড় কোটি টাকা।

আরিফিন শুভ

র‍্যাম্প মডেলিংয়ের পাশাপাশি রেডিওতে কথাবন্ধুর কাজ করতেন আরিফিন শুভ। এরপর নাটকে অভিনয় করেন। একটা সময় সবকিছুকে বিদায় দিয়ে নিজেকে চলচ্চিত্রের জন্য উপযোগী করে তোলেন। তাঁর প্রথম ছবি খিজির হায়াত খানের ‘জাগো’। ছবিতে অল্প উপস্থিতি দিয়েই দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নেন শুভ। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অগ্নি’ ছবির সাফল্যের পর চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালকদের কাছে নির্ভরযোগ্য নায়ক হয়ে ওঠেন শুভ। একে একে করেন ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি’, ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’, ‘ছায়াছবি’, ‘অগ্নি’, ‘কিস্তিমাত’, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’, ‘অস্তিত্ব’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’। কলকাতায়ও অভিনয় করছেন এই ঢালিউড তারকা। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে এই তারকার ‘নূর’, ‘নীলচক্র’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্র। ছবিপ্রতি বর্তমানে ১৫-২০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন শুভ। এই পারিশ্রমিকের হার ওঠানামাও করে বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট প্রযোজক-পরিচালকেরা।

শরীফুল রাজ

র‍্যাম্প মডেলিং থেকে সিনেমায় আসেন শরীফুল রাজ। বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন। মিজানুর রহমানের ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ দিয়ে আলোচিত হন রাজ। এই তারকার প্রথম অভিনীত সিনেমা রেদওয়ান রনির ‘আইসক্রিম’। ‘ন ডরাই’ সিনেমাতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ সিনেমা দিয়ে রাতারাতি তারকা বনে যান। ‘গুণিন’ সিনেমা দিয়ে দর্শকদের সামনে অন্যভাবে হাজির হন এই নায়ক। গত বছর এক ঈদেই মুক্তি পায় শরীফুল রাজের তিনটি সিনেমা: ‘দেয়ালের দেশ’, ‘কাজলরেখা’ এবং ‘ওমর’। এই ছবিগুলো দিয়েও আলোচনায় ছিলেন এই নায়ক। ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ সুপারহিট হওয়ার পর অনেক ছবির প্রস্তাব পান। কিন্তু ঢালাওভাবে ছবির কাজ হাতে নেননি। শেষ হয়ে আছে ‘কবি’ সিনেমার কাজ। হাসিবুর রেজার এই ছবি দিয়ে আবার আলোচনায় আসতে পারেন তিনি। জানা গেছে, ছবিপ্রতি এখন ১৫-২০ লাখ টাকা নিচ্ছেন এই ঢালিউড তারকা। কখনো তা ২৫ লাখও হয়, এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে কাজ করা প্রযোজক-পরিচালকেরা।

আফরান নিশো

উপস্থাপনা, মডেলিং হয়ে ২০০৫ সালে টিভি নাটকে কাজ শুরু করেন আফরান নিশো। শুরু থেকেই যে কাজটাই করেছেন, মনোযোগ দিয়ে করেছেন। নতুন মাধ্যম ওটিটিতে কাজ করলেও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সাহস বা ইচ্ছা ২০২৩ সালের আগে হয়নি। যখন সিদ্ধান্ত নিলেন, নাটকের কাজ কমিয়ে দেন। প্রথম ছবি ‘সুড়ঙ্গ’তেই সফলতা। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ছবিতে আফরান নিশোর পারিশ্রমিক ছিল ২০-২৫ লাখের ঘরে। রায়হান রাফি পরিচালিত ছবিটি মুক্তির পর বেশ আলোচনায় আসেন নিশো। পরপর কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করবেন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ছবির জন্য বছরখানেক সময় নিলেন নিশো। তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘দাগি’। শিহাব শাহীন পরিচালিত ছবিটি এ বছরের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাবে। এরই মধ্যে ছবিটির টিজার ও একাধিক ফার্স্টলুক পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে। দ্বিতীয় ছবিতেও নিশোর পারিশ্রমিক ২০-২৫ লাখের ঘরে, জানিয়েছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান–সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা।

সিয়াম আহমেদ

১৩ বছরের বেশি সময় ধরে বিনোদন অঙ্গনে কাজ করছেন সিয়াম। শুরুতে টেলিভিশন নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন। গত সাত বছর ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। প্রথম চলচ্চিত্র ‘পোড়ামন ২’ দিয়েই আলোচনায় আসেন সিয়াম। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ছবিতে তাঁর পারিশ্রমিক ছিল পাঁচ লাখের ঘরে। পরে একই পরিচালকের ‘দহন’ সিনেমায়ও অভিনয় করেন। অল্প সময়ের মধ্যে বড় বাজেটের একাধিক চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ আসে। ‘বিশ্বসুন্দরী’, ‘অ্যাডভেঞ্চার সুন্দরবন’, ‘মৃধা বনাম মৃধা’, ‘শান’, ‘পাপপুণ্য’, ‘অন্তর্জাল’, ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’—এসব ছবিতে সিয়ামকে ভিন্ন ভিন্ন লুকে পাওয়া গেছে। দরও বেড়েছে। আগামী ঈদে এই তারকার ‘জংলি’ ছবিটি মুক্তি পাবে। একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, এই ছবিতে সিয়ামের পারিশ্রমিক ৮-১২ লাখ টাকার মধ্যে।

জিয়াউল রোশান
৯ বছর ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন জিয়াউল রোশান। ‘রক্ত’ সিনেমা দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর অভিনয়জীবন, সর্বশেষ মুক্তি পায় ‘মেকআপ’। শুরুর দিকে কলকাতাতেও কাজের সুযোগ পান এই তারকা। ‘ককপিট’ নামের সেই ছবিতে সেখানকার জনপ্রিয় নায়ক দেবের সঙ্গে পর্দা ভাগাভাগি করেন। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে ‘পুলসিরাত’, ‘জামদানি’, ‘প্রেম পুরান’, ‘অপারেশন জ্যাকপট’। ঢালিউডে এই নায়ককে ঘিরেও একটা সম্ভাবনা দেখতে পান প্রযোজক পরিচালকেরা। রোশান অভিনীত ছবির প্রযোজক পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছবিপ্রতি তাঁর বর্তমান পারিশ্রমিক ৮-১০ লাখ টাকা।

ইমন

মডেলিংয়ের পাশাপাশি টিভি নাটকে অভিনয় করতেন ইমন। ২০০৭ সালে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ছবির মাধ্যমে প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয়। একই বছর মুক্তি পায় ‘এক বুক ভালোবাসা’। এরপর তিন বছরের বিরতি। ২০১০ সালে ‘গহিনে শব্দ’ ও ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লালটিপ’ ছবিতে অভিনয় করে দর্শকমহলে প্রশংসা কুড়ান। এরপর ‘পাসওয়ার্ড’ এবং ‘বীরত্ব’ ছবিতে ইমনের অভিনয় প্রশংসিত হয়। এই মুহূর্তে তাঁর হাতে রয়েছে নতুন দুটি ছবির কাজ। ঢাকাই ছবির আলোচিত এই নায়কের ছবিপ্রতি পারিশ্রমিক ৫-৭ লাখ টাকা। ক্ষেত্রবিশেষে ওঠানামাও করে।

নিরব
মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে আসেন নিরব। টিভি নাটকেও অভিনয় করেন। তাঁর প্রথম সিনেমা ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’। প্রথম ছবিতে পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন দুই লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত ঢাকাই ছবির এই নায়কের ৩০টির মতো ছবি মুক্তি পেয়েছে। একাধিক চলচ্চিত্রের কাজ চলছে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘বাংলাশিয়া’ ছবিতে নিজের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন এই নায়ক। মালয়েশিয়ান এই ছবিতে তাঁর পারিশ্রমিক ছিল ১৫ লাখ টাকা। তবে এখন তিনি ছবিপ্রতি নিচ্ছেন ৭-১০ লাখ টাকা। নিরব একাধিক ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে গোলাপ নামের একটি ছবিতে তাঁর নায়িকা পরীমনি।

আদর আজাদ

চ্যানেল আইয়ের রিয়ালিটি শো ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম চ্যাম্পিয়ান হয়ে বিনোদন অঙ্গনে আসেন আদর আজাদ। এরপর নাটকে অভিনয় করেন। স্বপ্ন ছিল বড় পর্দায় কাজ করবেন। সৈকত নাসিরের ‘তালাশ’ দিয়ে মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু। এরপর অভিনয় করেন ‘লিপস্টিক’, ‘লোকাল’, ‘যাও পাখি বলো তারে’, ‘যন্ত্রণা’ শিরোনামের চলচ্চিত্রে। শেষ করেছেন ‘পিনিক’ চলচ্চিত্রের কাজ। চলছে ‘টগর’ চলচ্চিত্রের কাজ। প্রযোজক–পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, ছবি দুটিতে আদর আজাদ ৩-৫ লাখ টাকার মধ্যে পারিশ্রমিক নিচ্ছেন।

বাপ্পী ও সাইমন

ডিজিটাল সিনেমার যুগে এসে নজর কেড়েছিলেন চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী। ২০১২ সালে ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবি দিয়ে তাঁর ঢালিউডে যাত্রা শুরু। একটা সময় দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ব্যবধান অনেক হলেও পারিশ্রমিকের দিক দিয়ে তখন শাকিব পরবর্তী স্থানে ছিলেন বাপ্পী চৌধুরী। ছবিপ্রতি তিনি ১০-১২ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিতেন। কাছাকাছি সময়ে কাজ শুরু করেন সাইমন সাদিক। ছবিপ্রতি তাঁর পারিশ্রমিক ছিল ৭-১০ লাখ টাকা। এই দুই নায়ক এখন সিনেমায় অনিয়মিত। বাপ্পী তাঁর পারিবারিক ব্যবসায় বেশি মনোযোগী আর সাইমন এখন আছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *