অনুমোদন ২ হাজার ৫শ যানবাহন, চলে ১৫ হাজার

0
fgjfj

বরিশাল মহানগরী এলাকায় বিআরটিএ অনুমোদিত ২ হাজার ৫০০ সিএনজি ও গ্যাস চালিত অটোরিকশার পাশাপাশি অবৈধ ১৫ হাজার ইজিবাইক ও মোটরচালিত রিকশা চলাচল করছে। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঈদকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলা থেকে অবৈধ যানবাহন নিয়ে চালকরা বাড়তি টাকার আশায় ভিড় করছে নগরীতে। ফলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৫৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকার প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পাকা সড়কের সর্বত্রই এখন অবৈধ যানবাহনে ঠাসা।

২০০৮ সালে সিটি করপোরেশন থেকে ২ হাজার ৬৯০টি ইজিবাইকের জন্য লাইসেন্স প্রদান করলেও ২০১৯ সালের জুন মাস থেকে তার নবায়ন বন্ধ রয়েছে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে ইজিবাইকের লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে কয়েক গুণ বেশি ইজিবাইক, মোটরচালিত রিকশাসহ দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে নগরীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে। নগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে অহরহ যানজটসহ ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা অবৈধ যানবাহন রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিলেও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে তা বাস্তবায়িত হয় না। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এসব অবৈধ যানবাহনে গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝেমধ্যে মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগ এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য জরিমানা কিংবা আটকের চেষ্টা করলেও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের কঠোর আন্দোলনের ফলে তা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও ট্রাফিক বিভাগের জরিমানার হাত থেকে রেহাই পেতে এসব অবৈধ যানবাহন বিভিন্ন সংগঠন, সাংবাদিক, পুলিশসহ প্রভাশালীদের ছত্রছায়ায় চলাচল করছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, বৈধ ও অবৈধ এসব যানবাহন সড়কে চলাচল করতে হলে মালিক সমিতি, শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়ন, সাংবাদিকদের ব্যানারে বিভিন্ন পত্রিকার স্টিকার ব্যবহার করে তা নগরীতে চলাচল করছে। অধিকাংশ মালিক ও চালকরা নানান হয়রানি থেকে রেহাই পেতে প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা মাসোয়ারা দিয়ে সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন। এসব গণপরিবহনের অধিকাংশ বিআরটিএর অনুমোদিত না হওয়ায় চালকরাও লাইসেন্স প্রাপ্ত নয়। অদক্ষ চালকের মাধ্যমে অবৈধ যানবাহনে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

বিআরটিএর বরিশাল উপ-পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান জানান, আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি বরিশাল মেট্রোপলিটনের সর্বশেষ বৈঠকে যানবাহন চলাচলে নানান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেননা বরিশাল মহানগরীতে প্রায় ১৫ হাজার অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের কারখানাগুলোতে অভিযান চালিয়ে তা সিলগালা করে দেওয়া এবং নগরীতে এর চলাচলে নিয়ন্ত্রণের জন্য সবাই একমত পোষণ করেন। সে অনুযায়ী সকল প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে।

একদিকে অবৈধ যানবাহনের ছড়াছড়ি অপরদিকে ফুটপাত যে যার মতো দখল করে রাখায় নগর জুড়ে ভয়াবহ যানজটের দেখা দিয়েছে। নগরীর প্রায় প্রতিটি সড়কের দুই পার্শ্বের ফুটপাত যার যার সামনে রয়েছে সে তার মতো করে দখল করে রেখেছে। সরেজমিনে নগরীর লঞ্চঘাট থেকে ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, চকবাজার, সদর রোড, বাজার রোডসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে ফুটপাত দখলের চিত্র।

নগরবাসীর মতে ফুটপাত দখল মুক্ত করতে সিটি করপোরেশন কঠোর পদক্ষেপ নিলে আর এমন অবস্থা হতো না। অনেকে আক্ষেপ করে বলেন খোদ নগর ভবনের চারিদিকই দখল হয়ে গেছে মৌসুমি দোকানদারদের কারণে।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ঈদকে কেন্দ্র করে মৌসুমি দোকানদাররা ফুটপাত দখল করলে তা উচ্ছেদ করা হবে। আগামী কয়েক দিন অভিযান আরও জোরালোভাবে পরিচালিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *