কুমিল্লা থেকে শুরু হয় ধাওয়া, নোয়াখালীর সুধারাম থানায় ঢুকে বাসযাত্রীদের রক্ষা


যাত্রীবাহী একটি বাস ঢাকা থেকে নোয়াখালী যাচ্ছিল। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পার হতেই ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে করে একদল তরুণ বাসটির পিছু নেয়। এরপর শুরু হয় ধাওয়া। দুই দফা পাথর ছুঁড়ে বাসটি থামানোর চেষ্টা করে তারা। আহত হন চালক। শেষ পর্যন্ত নোয়াখালীর সুধারাম থানার সামনে শেষ হয় মধ্যরাতের এই ভয়ংকর যাত্রা।
সোমবার (৩১ মার্চ) মধ্যরাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা-নোয়াখালী অংশে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তদের হামলায় চোয়াল থেঁতলে গেছে বাসচালক মো. সোহেলের।মাথা ও চোয়ালে লেগেছে ৩১টি সেলাই। ভেঙে গেছে নিচের পাটির দুটি দাঁত। তবু কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নোয়াখালীর সুধারাম থানা পর্যন্ত টানা বাস চালিয়ে যাত্রীদের রক্ষা করেছেন তিনি। বাসটি সুধারাম থানায় পৌঁছানোর পর যাত্রীরা থানায় ঢুকে পড়েন।
সম্প্রতি সময়ে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ডাকাতেরা এই হামলা চালিয়েছে কি-না তা এখনও জানা যায়নি।‘সাইড দেওয়াকে’ কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ পুলিশের।
বাসটির সহকারী মোহাম্মদ রাহাত, বাসটি যখন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পার হয়, তখনই ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে থাকা একটি দল দেখতে পান তারা। কিন্তু তখন বিপদ আঁচ করতে পারেননি কেউ। বাস থামাতে না পেরে মোটরসাইকেলের আরোহীরা প্রথমে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছাতারপাইয়া রাস্তার মাথায় এবং পরে বেগমগঞ্জ উপজেলার আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজের সামনে থেকে চালককে উদ্দেশ করে ইট ছোড়েন। ইটের আঘাতে থেতলে যায় বাসচালক সোহেলের চোয়াল। তবুও তিনি থেমে যাননি। প্রথম আঘাতের পর তার মুখ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। কিন্তু যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা বাস চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সবশেষ বাসটি নোয়াখালী সুধারাম থানার সামনে থামানো হলে, দ্রুত নেমে থানায় ঢুকে পড়েন যাত্রীরা।
মো. সোহেল বর্তমানে নোয়াখালীর মাইজদী সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার ছোট ভাই মেহেদী হাসান বলেন, চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার টাকা বাসমালিক দিয়েছেন। চিকিৎসার খরচ চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে।
বাসের মালিক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরে সুধারাম মডেল থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করতে চান। কিন্তু সুধারাম মডেল থানা থেকে সোনাইমুড়ী থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। সোনাইমুড়ী থানা থেকে আবার লাকসাম থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। হামলায় আহত বাসচালক সোহেলের মাথা ও চোয়ালে ৩১টি সেলাই লেগেছে। বাসে থাকা ৩৮ যাত্রীর মধ্যে নারী ও শিশু ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই ঘটনায় পেশাদার ডাকাতির সঙ্গে মিল নেই। কুমিল্লা ক্যন্টনমেন্ট থেকে ফেনী রুটে গত পাঁচ বছরে কোনো বাস ডাকাতির ঘটনা পাওয়া যায়নি বলে ভাষ্য পুলিশের।
মোটরসাইকেল আরোহীদের সাইড দেওয়া নিয়ে বাসচালকের দ্বন্দ্বের জেরেও এমনটি হতে পারে বলে মনে করছেন ইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আলম। তিনি বলেন, ডাকাতির উদ্দেশ্যে থাকলে এত লম্বা পথ পর্যন্ত কেন ধাওয়া করবে। এই রুটে অনেক গাড়ি চলাচল করে, গত পাঁচ বছরে কোনো বাস ডাকাতির ঘটনা পাওয়া যায়নি। তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তারা এই রুটের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কাজ করছে।